সুন্নাত বনাম বিদআত ১


وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
রাসূল তোমাদের যা দিয়েছেন তা গ্রহণ কর এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাসিত্মদাতা (হাশর ৫৯/৭)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে মান্য কর। আর রাসূলের আনুগত্য কর। তোমরা তোমাদের আমল বাতিল করো না (মুহাম্মাদ ৪৭/৩৩)
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ.
‘হে নবী! আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসতে চাও, তাহলে আমার অনুসরণ কর। আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল ও দয়াশীল (আলে ইমরান ৩/৩১)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيْعُوْا اللهَ وَأَطِيْعُوْا الرَّسُوْلَ وَأُوْلِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيْلًا.
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের   অন্ততর্গত আদেশ-দাতাগণের; অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে কোন মতবিরোধ হয় তবে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে তা প্রত্যাবর্তিত কর, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে থাক; এটাই হবে কল্যাণ ও পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম’ (নিসা ৪/৫৯)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ. متفق عليه
আয়েশাgবলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ.
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন আমল করবে যাতে আমার কোন নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য’ (মুসলিম হা/১৭১৮)।  
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرَ الْهَدْىِ هَدْىُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. وَفِيْ نَسَائِي (وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِى النَّارِ).
জাবের (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) হামদ ও ছালাতের পর বলেন, ‘নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হ’ল আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত হ’ল মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হ’ল দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি এবং প্রত্যেক  নতুন সৃষ্টিই হ’ল ভ্রষ্টতা’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১)। আর নাসাঈতে রয়েছে, প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম (নাসাঈ হা/১৫৭৮)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ  قَالَ أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللهِ ثَلاَثَةٌ مُلْحِدٌ فِى الْحَرَمِ، وَمُبْتَغٍ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ، وَمُطَّلِبُ دَمِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقٍّ لِيُهَرِيقَ دَمَهُ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন ‘তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত।- (১) যে ব্যক্তি হরমে নিষিদ্ধ কাজ করে (২) যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে জাহেলী যুগের রীতি চালুর আকাংখা করে (৩) যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারু রক্ত কামনা করে স্রেফ রক্তপাতের উদ্দেশ্যে (বুখারী, মিশকাত হা/১৪২)। ইসলামী রীতি-নীতি ছাড়া সবকিছুই জাহেলী রেসম রেওয়াজ।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ  قَالَ كُلُّ أُمَّتِى يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، إِلاَّ مَنْ أَبَى  قِيْلَ وَمَنْ أبَى؟ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِى دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِى فَقَدْ أَبَى.
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন ‘আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে অসম্মত। জিজ্ঞেস করা হ’ল, কে অসম্মত? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করবে, সে (জান্নাতে যেতে) অসম্মত’ (বুখারী, মিশকাত হা/১৪৩)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ جَاءَتْ مَلاَئِكَةٌ إِلَى النَّبِىِّ  وَهْوَ نَائِمٌ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ. فَقَالُوا إِنَّ لِصَاحِبِكُمْ هَذَا مَثَلاً فَاضْرِبُوا لَهُ مَثَلاً. فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ. فَقَالُوا مَثَلُهُ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا، وَجَعَلَ فِيهَا مَأْدُبَةً وَبَعَثَ دَاعِيًا، فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِىَ دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنَ الْمَأْدُبَةِ، وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّاعِىَ لَمْ يَدْخُلِ الدَّارَ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنَ الْمَأْدُبَةِ. فَقَالُوا أَوِّلُوهَا لَهُ يَفْقَهْهَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ. فَقَالُوا فَالدَّارُ الْجَنَّةُ، وَالدَّاعِى مُحَمَّدٌ  فَمَنْ أَطَاعَ مُحَمَّدًا  فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ عَصَى مُحَمَّدًا  فَقَدْ عَصَى اللهَ، وَمُحَمَّدٌ  فَرْقٌ بَيْنَ النَّاسِ.
জাবের (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন ‘একদিন একদল ফেরেশতা নবী করীম(সা.) -এর নিকটে আসলেন। এমতাবস্থায় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। ফেরেশতাগণ পরষ্পরে বললেন যে, তোমাদের এই সাথীর জন্য একটি উদাহরণ রয়েছে। তাঁকে উদাহরণটি বল। তখন তাদের কেউ কেউ বললেন, তিনি যে নিদ্রিত। জবাবে অন্যরা বললেন, তাঁর চক্ষু নিদ্রিত কিন্তু তাঁর অন্তর জাগ্রত। তখন তাদের কেউ কেউ বললেন, তাঁর উদাহরণটি হল, যেমন এক ব্যক্তি একটি গৃহ নির্মাণ করেন। অতঃপর সেখানে একটি ভোজের আয়োজন করেন। অতঃপর (লোকদের আহবান করার জন্য) তিনি একজন আহবায়ক পাঠালেন। এখন যে ব্যক্তি তার আহবানে সাড়া দিল, সে উক্ত গৃহে প্রবেশ করতে পারল এবং খাদ্য গ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি তার আহবানে সাড়া দিল না, সে উক্ত গৃহে প্রবেশ করতে পারল না এবং খেতেও পারল না। অতঃপর তারা পরস্পরকে বললেন, তাঁকে এই উদাহরণের তাৎপর্য বলে দাও, যাতে তিনি বুঝতে পারেন। এবারেও কেউ কেউ বললেন, তিনি তো নিদ্রিত। অন্যরা বললেন, তাঁর চক্ষু নিদ্রিত, কিন্তু তাঁর অন্তর জাগ্রত। তারা বললেন, গৃহটি হল ‘জান্নাত’। আহবায়ক হলেন ‘মুহাম্মাদ’ (এবং গৃহ নির্মাণ ও খাদ্য প্রস্ত্ততকারী হলেন ‘আল্লাহ’)। অতএব যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের অবাধ্য হল, সে আল্লাহর অবাধ্য হল। মুহাম্মাদ হলেন মানুষের মধ্যে (ঈমান ও কুফরের) পার্থক্যকারী’ (বুখারী, মিশকাত হা/১৪৪)

Comments

Popular posts from this blog

শিক্ষনীয় একটি গল্প---

আল্লাহর ক্ষমা - ১

আল্লাহর ক্ষমা - ২